সেরা ৯টি টরেন্ট অ্যাপ এবং টরেন্ট ডাউনলোডার

টরেন্ট অ্যাপ

গেমস, মুভি, সফটওয়্যার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কিছু ডাউনলোড করার জন্য আমরা কম বেশি টরেন্ট ব্যবহার করে থাকি। বিভিন্ন টরেন্ট ভিত্তিক সাইট থেকেই আমরা এইসব ডাউনলোড করে থাকি। তবে এই ডাউনলোড করার জন্য অ্যাপ বা সফটওয়্যারের প্রয়োজন।

পিসি বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে টরেন্ট সাইট থেকে কিছু ডাউনলোড করার জন্য বিটটরেন্ট বা ইউটরেন্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তেমনি আপনার স্মার্টফোন দিয়ে টরেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে টরেন্ট সাইট থেকে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ফাইল ডাউনলোড করতে পারবেন।

গুগল প্লে স্টোরে অনেকগুলো টরেন্ট অ্যাপ রয়েছে। এর মধ্যে থেকে সেরা ৯টি অ্যান্ড্রয়েড টরেন্ট অ্যাপ নিয়ে সাজানো হয়েছে এই আর্টিকেলটি। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

সেরা ৯টি অ্যান্ড্রয়েড টরেন্ট অ্যাপ এবং ডাউনলোডার

BitTorrent এবং uTorrent (ফ্রি + প্রিমিয়াম)

বিটটরেন্ট এবং ইউটরেন্ট একই ডেভেলপারের দুটি আলাদা অ্যাপ। তারা ভিন্নভাবে কাজ করে থাকে, তবে অ্যাপ দুটির ফিচার একই। এতে শুধু ওয়াইফাই ডাউনলোড ফিচার রয়েছে, এর ফলে আপনি মোবাইল ডাটা অন করলে ডাউনলোড হবে না। ডাউনলোড করার জন্য অ্যাপ থেকে মোবাইল ডাটা সেটিং অন করে দিতে হবে।

ইউটরেন্ট অ্যাপটি প্লে স্টোর থেকে এখন পর্যন্ত ১০০ মিলিয়ন এবং বিটটরেন্ট ১০ মিলিয়নের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। অ্যাপ দুটির রেটিং অনেক ভালো।

দুটো অ্যাপই ফ্রি ও প্রিমিয়াম ভার্সন রয়েছে। ফ্রি ভার্সনে অ্যাড দেখা যাবে। বিটটরেন্ট অ্যাপটির দাম ২৫০ টাকা এবং ইউটরেন্ট অ্যাপের দাম ২৫০ টাকা।

Flud Torrent Downloader (ফ্রি + প্রিমিয়াম)

এটি অনেক শক্তিশালী টরেন্ট অ্যাপ। এটির ইউজার ইন্টারফেইস অনেক সিম্পল এবং ক্লিয়ার। এটিতে বিভিন্ন ধরণের প্রোটোকল, ম্যাগনেট লিংক, আরএসএস ফিড সমর্থিত। বড় বড় ফাইল ডাউনলোড করতে সক্ষম। এছাড়া থিম পরিবর্তণ করার অপশন রয়েছে।

এটি এখন পর্যন্ত ১০ মিলিয়নের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। ফ্রি ও প্রিমিয়াম ভার্সনের মাঝে পার্থক্য হলো ফ্রিতে অ্যাড দেখাবে আর প্রিমিয়ামে দেখানো হবে না। বাকি সব ফিচার একই থাকছে।

LibreTorrent (ফ্রি)

এটি একটি ওপেন সোর্স টরেন্ট অ্যাপ। এতে সকল দরকারি ফিচার রয়েছে। এর ডিজাইন একদম সিম্পল এবং ডার্ক মোড রয়েছে।

এখন পর্যন্ত অ্যাপটি ১ লক্ষের বেশি বার ডাউনলোড হয়েছে। এটি পুরো ফ্রি খুবই ভালো একটি টরেন্ট ডাউনলোডার অ্যাপ।

TorrDroid (ফ্রি)

এটি নতুন একটি অ্যাপ, তবে খুব কম সময়ে ১০ মিলিয়নের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। এটি ফ্রি হলেও সকল ফিচার রয়েছে। এটি টরেন্ট ফাইল, ম্যাগনেট লিংক, প্রোটোকল, ওয়াইফাই অনলি ডাউনলোড এবং আরো কিছু ফিচার রয়েছে। এছাড়া এতে রয়েছে টরেন্ট সার্চ অপশন।

এটির ডিজাইন একদম সিম্পল এবং সহজ। এটি পুরো ফ্রি, তবে অ্যাড দেখা যাবে।

tTorrent (ফ্রি + প্রিমিয়াম)

এটি একটি জনপ্রিয় অ্যাপ। এতে অনেকগুলো ফিচার রয়েছে। এটিতে টরেন্ট ফাইল ডাউনলোড, ম্যাগনেট লিংক, ডাউনলোড সেটিং পরিবর্তণ এবং বিভিন্ন প্রোটোকল ফিচার রয়েছে। এতে এনক্রিপশন এবং ওয়েব ইন্টারফেইস ফিচার রয়েছে।

অ্যাপটির ইউ ডিজাইন আধুনিক, তবে সিম্পল। এটি এখন পর্যন্ত ১০ মিলিয়নের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। এটি প্রিমিয়াম ও ফ্রি ভার্সন রয়েছে। প্রিমিয়াম ভার্সনের দাম ১৫০ টাকা।

zetaToreent (ফ্রি + প্রিমিয়াম)

এটি অন্যতম একটি ইউনিক টরেন্ট ডাউনলোড অ্যাপ। এতে একটি ওয়েব ব্রাউজার রয়েছে, ব্রাউজারটিতে অ্যাড ব্লক ফিচার রয়েছে। ব্রাউজিং করার পাশাপাশি টরেন্টের মাধ্যমে ডাউনলোড করতে পারবেন।

এতে টরেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ডাউনলোড সেটিং, বিভিন্ন আরএসএস প্রোটোকল সমর্থিত এবং ওয়াইফাই দিয়ে ফোন থেকে পিসিতে ফাইল ট্রান্সফার করার ফিচার রয়েছে। এছাড়া আরো অনেক ফিচার রয়েছে।

অ্যাপটি প্লে স্টোর থেকে এখন পর্যন্ত ১ মিলিয়নের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। এর ফ্রি ও প্রিমিয়াম ভার্সন রয়েছে। প্রিমিয়াম ভার্সনের দাম ২২০ টাকা।

FrostWire (ফ্রি + প্রিমিয়াম)

এটি অন্যতম একটি জনপ্রিয় টরেন্ট ডাউনলোডার। এটির ইউজার ইন্টারফেইস আধুনিক, সিম্পল এবং অনেকগুলো ফিচার রয়েছে। এটিতে টরেন্ট ফাইলের পাশাপাশি ম্যাগনেট লিংক সাপোর্ট করে। এতে আরো রয়েছে টরেন্ট সার্চ ফিচার, তবে এটি খুব বেশি ভালো নয়।

এটি এখন পর্যন্ত ১০ মিলিয়নের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। এটি একটি ওপেন সোর্স অ্যাপ, তবে ফ্রি ভার্সনে অ্যাড রয়েছে।

Checketry (ফ্রি + প্রিমিয়াম)

এটি কোনো টরেন্ট অ্যাপ নয়। এটি দিয়ে আপনি আপনার পিসি বা ল্যাপটপে টরেন্ট ডাউনলোডগুলো পরিচালনা এবং ট্র্যাক করতে পারবেন। এটি দিয়ে স্টিম, ইএ অরিজিন, ব্যাটল নেট, গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স এবং অন্যান্য আরো কিছুর ডাউনলো পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

এই অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি ডাউনলোড করা হয়েছে। এটির ফ্রি এবং প্রিমিয়াম ভার্সন রয়েছে। ফ্রি ভার্সনে উপরে উল্লেখিত কিছু ফিচার পাবেন না।

টরেন্ট সাইট থেকে কোনো কিছু ডাউনলোড করার জন্য অবশ্যই সীড এবং লীচ দেখে নিবেন। এই দুটি যদি বেশি বা সমান থাকে তাহলে ভালো গতিতে ডাউনলোড করতে পারবেন। এর মানে হলো ধরুণ একটি ফাইলে সীড রয়েছে ১০০টি আর লীড ১১০টি বা আরো কম তাহলে আপনি ভালো গতি পাবেন। যদি সীড ১০টি আর ১০০টি লীড হয়, তাহলে ডাউনলোড স্পিড কম পাবেন। সীড এবং লীডের উপর স্পিড নির্ভর করে।

আশা করি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ।

প্রযুক্তি দুনিয়ার সকল খবর জানতে আমাদের সাথে থাকুন এবং যুক্ত হয়ে যান আমাদের ফেসবুক পেইজের সাথে।

আরো পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।